সিরিয়ায় কুর্দিদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। গতকাল শুক্রবার রাতে জারি করা এই ডিক্রিতে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত কুর্দি বাহিনী ও দামাস্কাসের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুর্দিরা মেসোপটেমীয় সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের একটি প্রাচীন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। বর্তমানে দক্ষিণ–পূর্ব তুরস্ক, উত্তর–পূর্ব সিরিয়া, উত্তর ইরাক, উত্তর–পশ্চিম ইরান ও দক্ষিণ–পশ্চিম আর্মেনিয়া অঞ্চলে তাদের বসবাস। প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি কুর্দি এসব এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হলেও তারা কখনোই নিজস্ব একটি রাষ্ট্র পায়নি।
কুর্দিরা তাদের স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। অধিকাংশ কুর্দি সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। আরব, তুর্কি ও পারসিকদের পর মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিরাই চতুর্থ বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী। শত শত বছর ধরে তারা সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ার সমতল এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। স্বতন্ত্র ভাষা–সংস্কৃতির কারণে পার্শ্ববর্তী আরব ও তুর্কিদের থেকে কুর্দিদের আলাদা করে চেনা যায়। সংস্কৃতিগত মিলের কারণে কুর্দিদের ইরানি মহাজাতির অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। অঞ্চলভেদে তারা তুর্কি কুর্দি, ইরাকি কুর্দি, ইরানি কুর্দি ও সিরীয় কুর্দি পরিচয়ে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আল-শারা বলেন, এই ডিক্রি ‘আইনের পাঠ্যের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে’ এবং কুর্দিদের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তিনি বাস্তুচ্যুত কুর্দি–সিরীয়দের অস্ত্র জমা দিয়ে নিজ নিজ শহর ও গ্রামে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
প্রকাশিত পূর্ণ ডিক্রিতে কুর্দি ভাষাকে সিরিয়ার একটি ‘জাতীয় ভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং নওরোজকে জাতীয় ছুটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। নওরোজ কুর্দিসহ ইরান, ইরাক, তুরস্ক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মানুষের কাছে বসন্ত ও নতুন বছরের প্রতীক। কুর্দিদের কাছে এটি স্বাধীনতা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত, যা কাওয়া নামের এক কিংবদন্তিতুল্য কুর্দি যোদ্ধার সঙ্গে জড়িত। এ দিন তারা মশাল জ্বালিয়ে, গান গেয়ে ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে উদযাপন করে।
ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালের বিতর্কিত আদমশুমারির মাধ্যমে যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিল, তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দেইর হাফ অঞ্চল স্থিতিশীল করতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী কুর্দি অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আল আরাবিয়া ইংলিশকে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সিরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের প্রধান মাজলুম আবদি জানান, মধ্যস্থতাকারী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় আলেপ্পোর পূর্ব দিক থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ইউফ্রেটিস নদীর পূর্বাঞ্চলে পুনরায় মোতায়েন করা হবে।
মন্তব্য করুন: