যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে আটক করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধান, দুটোকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এই অভিযান শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা, বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মাত্র দুই মাস আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে যেকোনো স্থলভিত্তিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। কারণ এমন অভিযান কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সেই সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গেও একই কথা বলেন এবং স্বীকার করেন, এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে শক্ত আইনি ভিত্তির অভাব রয়েছে।
গত দুই নভেম্বর হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ Susie Wiles প্রকাশ্যে বলেন, ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান মানেই যুদ্ধ, আর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের। তখন বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও ছিল স্পষ্ট আইনি উদ্বেগ।
কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সেই অবস্থান বদলে যায়। হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। কংগ্রেসকে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কোনো যুদ্ধ নয়, বরং একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট J.D. Vance বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সন্ত্রাসের মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সামরিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত বহু ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের গ্রেপ্তারে সাধারণত কোনো দেশের ভেতরে সামরিক হামলা চালানো হয় না। ফলে আইন প্রয়োগের এই যুক্তি আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এছাড়া অভিযানের যুক্তিও সময়ের সঙ্গে বদলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে বলা হয় মাদক পাচার দমন, পরে যুক্তি দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধী পাঠানোর অভিযোগ, আর সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই কথা বলেন ভেনেজুয়েলার তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করতে পারে এবং দেশটির তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন করবে।
এই বক্তব্য অনেকের কাছে অভিযানটিকে কেবল একজন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়, বরং একটি সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে। এমনকি রিপাবলিকান সিনেটর Lindsey Graham-ও প্রশাসনের বক্তব্যে স্পষ্টতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আবারও তার প্রেসিডেনশিয়াল ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছেন। ভেনেজুয়েলা অভিযান শুধু একটি দেশের নেতা আটক নয়—এটি আন্তর্জাতিক আইন, কংগ্রেসের ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষার নাম।
মন্তব্য করুন: