লন্ডন, ১৮৮৮: শতবর্ষ পরেও লন্ডন শহরের বুকে এক চাপা আতঙ্ক যেন জাঁকিয়ে রয়েছে। ১৮৮৮ সালের সেই রক্তস্নাত শরৎকাল, যখন হোয়াইটচ্যাপেলের অন্ধকার গলিতে ঘটেছিল এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড সিরিজ, যার রচয়িতা আজও অধরা। ইতিহাসের পাতায় সে পরিচিত 'জ্যাক দ্য রিপার' (Jack the Ripper) নামে।
পাঁচটি নৃশংস খুন
লন্ডনের ইস্ট এন্ডের কুখ্যাত হোয়াইটচ্যাপেল ছিল দারিদ্র্য ও অপরাধের কেন্দ্র। আগস্ট মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত, মাত্র ১১ সপ্তাহের মধ্যে এই এলাকা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচজন মহিলার (Canonical Five) ছিন্নভিন্ন দেহ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মেরি অ্যান নিকোলস, অ্যানি চ্যাপম্যান, এলিজাবেথ স্ট্রাইড, ক্যাথরিন এড়োয়েস এবং মেরি জেন কেলি।
গোয়েন্দাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলির পদ্ধতি দেখে স্পষ্ট যে খুনি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং মানবদেহ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখত। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিথর দেহগুলি বীভৎসভাবে বিকৃত করা হয়েছিল।
"এ যেন এক ছায়ামূর্তির কাজ। সে আসে, রক্ত ঝরিয়ে দেয়, আর তারপর বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। তাকে ধরার সব চেষ্টা ব্যর্থ।"
তৎকালীন এক লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ কর্মকর্তা (রেকর্ড অনুযায়ী)
'ডিয়ার বস'
খুনগুলি যখন লন্ডনকে গ্রাস করছে, ঠিক তখনই সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর চালাকি। সংবাদ সংস্থা ও পুলিশের কাছে আসতে শুরু করে একাধিক বেনামী চিঠি, যার মধ্যে একটিতে খুনি নিজেকে 'জ্যাক দ্য রিপার' বলে দাবি করে। যদিও আধুনিক তদন্তকারীরা মনে করেন, এই চিঠিগুলির অধিকাংশই ছিল ভুয়ো, সম্ভবত সাংবাদিক বা জনসাধারনের করা—তবুও এই নামটাই আততায়ীর স্থায়ী পরিচিতি হয়ে ওঠে।
কে সেই রিপার?
দীর্ঘ তদন্তেও খুনিকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে সন্দেহভাজনদের তালিকায় উঠে এসেছে নানা ধরনের নাম, চিকিৎসক, আইনজীবী, এমনকি রাজপরিবারের সদস্যও।
সাম্প্রতিক ফরেনসিক গবেষণা থেকে শুরু করে ডিএনএ পরীক্ষার চেষ্টা, সবকিছুই এই রহস্যের পর্দা পুরোপুরি সরাতে পারেনি।
প্রশ্নটা আজও একই রয়ে গেছে: হোয়াইটচ্যাপেলের ওই অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই ভয়ঙ্কর মুখটি কার ছিল? সে কি সমাজেরই কেউ ছিল, নাকি এক মানসিক বিকারগ্রস্ত?
লন্ডন পুলিশের ফাইল এখনও খোলা। এই কেসটি কেবল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়, এটি অপরাধের ইতিহাসে এক অমর সাসপেন্স, যা আজও সমাধান হওয়ার অপেক্ষায়।
জ্যাক দ্য রিপার-এর রহস্য নিয়ে আরও কোনো তথ্য জানতে চান, যেমন বিশেষ কোনো সন্দেহভাজন সম্পর্কে, নাকি সেই সময়ের লন্ডন কেমন ছিল?
মন্তব্য করুন: