২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের তিনটি শ্রেণির (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে সরকার এবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা যায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানরাও বই ছাপার জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।
এ কারণে দেশের ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশি কাগজশিল্প ও ছাপাখানার মালিক-শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, দেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে গেলে দেশের ছাপাখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান কমবে এবং শিল্পে ধস নামবে।
পাশাপাশি বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে সরকার তাদের ভ্যাট-ট্যাক্স বহন করবে, কিন্তু দেশি প্রতিষ্ঠান সেই খরচ নিজেই বহন করে থাকে। ফলে দেশি ছাপাখানাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কম দামে বই ছাপতে পারবে না।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ২৬ আগস্ট বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ৯ কোটি প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি বইয়ের প্রস্তাব স্থগিত রাখে। তবে আন্তর্জাতিক দরপত্রের জন্য সরকার বিধিতে সংশোধন এনেছে, যা দ্রুত ছাপার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
সোর্স: স্বদেশ প্রতিদিন
মন্তব্য করুন: