[email protected] রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
১৫ ভাদ্র ১৪৩২

সোনালি-কমলা রঙের হাঙর!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম

ছবি : সংগ্রহিত

ভাবুন তো— ডাইভিং গগল পরে গভীর নীল সমুদ্রে নামলেন। চারপাশে কেবল নীরবতা, কানে শুধু বুদবুদের শব্দ। হঠাৎ দূরে ঝলমলে আলো! কাছে যেতেই বোঝা গেল, ওটা আলো নয়, সোনালি-কমলা রঙের একটি হাঙর! মনে হবে যেন সমুদ্রের নিচে আগুনের গোলা জ্বলে উঠেছে। ঠিক এমনই রূপকথার মতো দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন কোস্টারিকার কিছু জেলে।

ঘটনাটা ঘটেছিল টর্টুগুয়েরো ন্যাশনাল পার্কের কাছে। একদল জেলে আর পর্যটক মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সমুদ্রে। হঠাৎই ৩৭ মিটার গভীরে, ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উষ্ণ পানিতে চোখে পড়ে উজ্জ্বল কমলা রঙের সেই হাঙর। বিস্ময় সামলাতে না সামলাতেই সবাই ঝটপট কয়েকটি ছবি তুলে রাখেন বিরল এই হাঙরের।

তাহলে প্রশ্ন হলো, সাধারণ হাঙর এমন সোনালি-কমলা রঙের হলো কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করেছে দুটি বিরল জেনেটিক অবস্থা। প্রথমত, অ্যালবিনিজম— যেখানে শরীরে মেলানিন কম থাকে। দ্বিতীয়ত, জ্যানথিজম— যা শরীরে অতিরিক্ত হলুদ বা কমলা রঙ তৈরি করে। দুইয়ের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে একেবারে সোনালি কমলার চমক। শুধু তাই নয়, এই হাঙরগুলোর চোখও সাদা, যা এদের আরো রহস্যময় বানিয়েছে।

তবে এই রঙিন সৌন্দর্য হাঙরের জন্য সুখবর নয় সবসময়। সাধারণ হাঙর এর বাদামি রঙের জন্য সহজে আড়াল হয়ে যায় সমুদ্রতলে। কিন্তু এই কমলা হাঙরগুলো যেন স্পটলাইটে দাঁড়িয়ে থাকা তারকা। তাই শিকারিদের নজরে পড়ে খুব সহজেই।

আগে শুধু মাছ, সরীসৃপ আর পাখির মধ্যে জ্যানথিজম অবস্থা পাওয়া গেলেও হাঙরের মতো কর্টিলেজযুক্ত মাছের মধ্যে এটাই প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ।

এখন বিজ্ঞানীরা আরো গভীর উত্তর খুঁজছেন— কীভাবে পরিবেশ আর জেনেটিক ফ্যাক্টর একসঙ্গে কাজ করে এই রঙের জন্ম দিল! তার উত্তর হয়তো শুধু এই এক হাঙরের নয়, বরং পুরো সমুদ্রের বৈচিত্র্যেরই এক নতুন গল্প।

সোর্স: নিউজজি 

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর